পটুয়াখালী, বরিশাল, সমুদ্র-সৈকত

সাগর জলে পা : কুয়াকাটা সাগর সৈকত

Kuakata Sea Beach

সাগর জলে পা : কুয়াকাটা সাগর সৈকত

আফরোজা অদিতি

সাগর জলে পা : কুয়াকাটা সাগর সৈকত

ভেজা বালিতে পা ভিজিয়ে চলতে চলতে সাগরের নীল অথৈ জলে আকাশের ছায়া এবং জলের সঙ্গে দিগন্তরেখার মিলন আর সকাল-সন্ধ্যার রঙের খেলায় প্রকৃতির সৌন্দর্য অবগাহনে মনকে পরিপূর্ণ করে জীবন উপভোগ করতে চাইলে সাগরে যেতে হয়! সাগরে গেলে প্রশান্তি আসে মনে।

এই ছোট্ট জীবনে আনন্দ-সুখের সময়-মাত্রা খুব কম! তাই আনন্দ পেতে কিংবা আনন্দ ভাগ করে নিতে সমুদ্রের জুড়ি নেই; তাই সমুদ্রের পায়ের কাছে একটু বসলে, একটুখানি দাঁড়ালে মন ভরে ওঠে।

সাগরের বিশালত্ব দেখলে আনন্দ তো পাওয়া যায়ই, তবে সেই আনন্দ ছাপিয়ে মনে পড়ে সৃষ্টিকর্তাকে! সমুদ্রে গেলে প্রাপ্তির পূর্ণতায় আপনা থেকেই হৃদয়-মন-প্রাণ ভরে গিয়ে স্মরণে আসেন তিনি!

কারণ বিজ্ঞান মেনে যুক্তিতর্কের খেলা খেললেও, সবশেষে আমরা সেই একই জায়গাতে হাবুডুবু খেতে হয় এই ভেবে যে, এই বিশ্ব-প্রকৃতির শেষ বা শুরু কোথায়? আর তা খুঁজতে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়তে হয় কখনো কখনো?

এই নেশা হলো কবিতা-গল্প-গদ্য লেখার নেশা, কখনো বেড়ানোর নেশা, কখনো-বা চুপচাপ বসে থাকার নেশা! নৃ-মন বিশ্ব-প্রকৃতির বিশাল আয়োজন দেখে ভাবে—এই সবের আয়োজক কে? আর সবার ওপরে এই আমিই-বা কে? আমি কোথা থেকে এসেছি? ভাবতে ভাবতে মন থেমে যায় সেই ডটে (.), যে ডটে (.) দাঁড়িয়ে আছে আদি পুরুষ ও আদি নারী!

যাক সে কথা, এই ভাবনায় গিয়ে কাজ নেই, আমি অতি সামান্য এক মানুষ সাগর দর্শনে আসি, দেখি এবং মন-প্রাণ ভরে আনন্দ নেই।

মানবমন আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকে, থাকতে চায়। আমি এক সহজ মানুষ সাগরের কাছে গিয়ে সেই আনন্দ খুঁজি!

সাগরের কাছে গেলে আপনা থেকেই উঠে আসে কবিতা। ইচ্ছা করে কবিতা পড়ি; পড়ি মনখুলে—

‘সাগর জলে সিনান করি সজল এলোচুলে

বসিয়াছিলে উপল-উপকূলে

শিথিল পীতবাস

মাটির পরে কুটিলরেখা লুটিল

চারিপাশ…’

সাগর জলে পা

কুয়াকাটা সাগর সৈকত

অস্ট্রেলিয়া ঘুরে আসার পর ভাবতেই পারিনি—এখনই আবার বেড়াতে যাবো। আমার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল মিয়ানমার, কিন্তু সেটি হচ্ছে না বা হলো না!

যাই হোক, এই বছর বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি রোববার হওয়াতে রবির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র-শনি মিলিয়ে তিনদিন; স্থির হলো কুয়াকাটা যাওয়ার।

প্রথমে স্থির হয়েছিল সোমবার বড় মেয়ে ছুটি নিবে; চারদিন বেড়াবো। পরে তা কমিয়ে তিনদিনই হলো।

রাহগীরের (বড় মেয়ের ছেলে) পরীক্ষা, ওর মায়ের অফিস—এসব মিলিয়ে কাটছাট করা। আমরা লঞ্চে না-গিয়ে বাই রোডে মাইক্রো ভাড়া করে চললাম শুক্রবার ভোরে।

যাত্রা দীর্ঘ কিন্তু মন্দ না। বরিশাল যেতে দুই পথে ফেরি পার হওয়া যায়; একটি মাওয়া থেকে কেওড়াকান্দি, অন্যটি পাটুরিয়া থেকে দৌলদিয়া। আমরা পাটুরিয়া দিয়ে নদী পার হলাম।

এই পথ দিয়ে জলপথে সময় কম, সড়কপথে সময় বেশি লাগে। আর মাওয়া দিয়ে গেলে জলপথে সময় বেশি, সড়কপথে সময় কম।

বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার পথে আরো চারটি ব্রিজ, আর একটি ফেরি পার হতে হলো। এখানে পাঁচটি ফেরি ছিল শুনেছিলাম, এখন ব্রিজ হয়েছে, অবশ্য টোল দিতে হয় প্রতিটি ব্রিজেই।

এই সব পথের পাঁচালি গাইতে গাইতে যখন কুয়াকাটা পৌঁছলাম, তখন রাত আটটা পার হয়ে গেছে।

আমরা যাওয়ার আগে ভেবেছিলাম, ছয়টার মধ্যে পৌঁছে সাগর সৈকতে যাবো। কিন্তু তা হলো না, সেদিন হোটেলেই কাটাতে হলো, বের হওয়া হলো না।

পরদিন ‘সাগর কন্যা কুয়াকাটা’ সমুদ্র সৈকতে গেলাম। আহা, সত্যিই মনোমুগ্ধকর, মনোরম!

সাগর জলে পা

কুয়াকাটা যে হোটেলে ছিলাম (হোটেল নীলাঞ্জনা), সেখান থেকে হেঁটেই যাওয়া যায় সৈকতে। যাওয়ার পথে রাখাইন নারী মার্কেট আর শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধমন্দির পার হয়ে আমরা সৈকতে গেলাম।

সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকত প্রায় ১৮ কিমি দীর্ঘ, ৩.৫ কিমি প্রস্থ। এই সৈকতের বালি কক্সবাজারের বালির মতো নরম নয়। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়।

দীর্ঘ সৈকত ধরে নারকেল গাছের সারি। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনে ধ্বংসের মুখে এই নারকেল বাগান।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। পটুয়াখালি জেলার কলাপাড়া উপজেলার পৌরসভা এই কুয়াকাটা। কুয়াকাটা পৌরসভার আয়তন ৮.১১ বর্গকিলোমিটার।

২০১০ সালে ১৫ ডিসেম্বরে লতাচাপালি, গঙ্গামতি, কাউয়ার চর, চর চাপালি মৌজা নিয়ে—এই পৌরসভা গঠিত হয়।

কথিত আছে, ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করে, সেই সময় রাখাইনরা পালিয়ে এখানে আসে।

যুদ্ধের সময়ে বার্মা থেকে ৫০টি নৌকা নিয়ে ১৫০ রাখাইন পরিবার (মতান্তরে ১৫০টি নৌকা, ২৫০ রাখাইন পরিবার) এখানে আসে এবং আশ্রয় নিয়ে বসতি স্থাপন করে।

বেঁচে থাকার তাগিদে বনজঙ্গল কেটে আবাদ করে এবং সাগরের লোনাজল খাওয়ার অনুপযুক্ত হওয়ায় সুপেয় জলের জন্য কুয়া খনন করে। এই ঐতিহ্যবাহী কুয়ার জন্যই এই স্থানের নাম কুয়াকাটা।

কুয়াকাটাতে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির আছে, যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মসভা করে। প্রতিটি মন্দিরের পাশেই সুপেয় জলের এই কুয়া খনন আছে।

পরে ১৯০৭ সালে ব্রিটিশ সরকার রাখাইনদের থাকার জন্য জমি বরাদ্ধ দিলে, এখানে রাখাইন সম্প্রদায় বসবাস শুরু করে।

রাখাইনরা খুব রক্ষণশীল সম্প্রদায়। রাখাইন শব্দটির উৎস পলিভাষা। রক্ষাইন হলো রক্ষণশীল এবং এই রক্ষাইন শব্দটি থেকেই রাখাইন কথাটির উদ্ভব।

সাগর জলে পা

সৈকতের পাশে উঁচু টিলার ওপর শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ মন্দির অবস্থিত। নয় রকমের ধাতুর মিশ্রনে তৈরি ৩৭ মন ওজনের ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ মূর্তি আছে এই মন্দিরে। এই মন্দিরের মূর্তিটি স্থাপন করেন উপেংইয়া ভিক্ষু।

সে-সময়ে মন্দিরের দায়ক ছিলেন উপজাতি রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতা বাচিন তালুকদার। মন্দিরে ওপরে ওঠার সিঁড়ির দুই পাশে দুটি মানবমূর্তি আছে; ভেতরে একটি সিংহের মূর্তি ও ভিক্ষু মূর্তি (নাম পড়া যায়নি) প্রতিষ্ঠিত আছে।

এই মন্দিরে একটি সুপেয় জলের কুয়া আছে। কুয়াটি সিমেন্টে বাঁধানো এবং ছাদ পর্যন্ত ঘিরে দেওয়া, তবুও দেখলাম নানারকম আবর্জনা কুয়ার ভেতরে!

ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তিটির সামনে আগরবাতি, মোমবাতি ছাড়াও আরো নানাবিধ সামগ্রী আছে, আছে একটি দানবাক্স। এই মন্দিরে দুস্থ ছেলেরা থাকে, তারা লেখাপড়া করে; তাদের জন্য পরিদর্শনে যারা আসে, তারা ইচ্ছা করলে দান করে যায়।

এই মন্দিরের পাশে একটি ভাঙা পুরানো জাহাজ রাখা আছে। ঝাউবনের কাছে বালুচরে বালির নিচে এই জাহাজটি পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের মতে, এই জাহাজটি সেই সময়কার হতে পারে এবং রাখাইনরা যে জাহাজে করেই এখানে এসেছিল, এটি তারই একটি।

কাঠ নির্মিত এই জাহাজটির দৈর্ঘ ৭২ ফুট, প্রস্থ ২৪ ফুট, উচ্চতা সাড়ে ১০ ফুট। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ও খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্বাবধানে ২৪ জানুয়ারি ২০১৩ সালে এই জাহাজের উদ্ধারকাজ শেষ হয়। অবশ্য এটি নৌকা না জাহাজ—এ নিয়ে বিতর্ক আছে।

এই বিতর্কে অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি স্ক্রুনার অর্থাৎ সমুদ্রগামী ছোট্ট পালতোলা জাহাজ। এটির বয়স দেড়শ বছরের বেশি।

আনুমানিক ৯০ টন ওজনের এই পালতোলা নৌকা বা জাহাজটি সংরক্ষিত আছে, এই শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ মন্দিরের পাশে।

কুয়াকাটা সাগর সৈকতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা ছাড়াও দেখার আছে অনেক কিছু : এখানে আছে রাখাইন পল্লী, শুটকি পল্লী, ফাতরার বন, লেম্বুর চর, মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধবিহার, লাল কাঁকড়ার দ্বীপ, গঙ্গামতির চর, ইকো পার্ক, কাউয়ার চর।

সাগর জলে পা

কুয়াকাটা সৈকতের ৭ কিমি পশ্চিমে আছে শুটকি পল্লী। শুটকি পল্লীতে জেলেদের বাস। এরা মাছ ধরে এবং সেই তাজা মাছ বিশেষ পদ্ধতিতে শুকিয়ে শুটকি করে।

শুটকি পল্লীতে তাজা মাছ কীভাবে শুটকি করে, তা দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড় জমে যায়। বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই শুটকি তৈরি করে এখানকার জেলেরা।

মিশ্রি পাড়ার প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দিরটি কুয়াকাটা থেকে ৮ কিমি দূরে অবস্থিত। মিশ্রি পাড়াতেও রাখাইনদের বসবাস আছে। কথিত আছে, এই গ্রামটি প্রভাবশালী নেতা মিশ্রি তালুকদারের নামানুসারেই রাখা হয়েছে।

মিশ্রি পাড়ার সীমা বৌদ্ধবিহারে যে বুদ্ধমূর্তিটি অধিষ্ঠিত আছে, সেটি এই উপমহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় অষ্টধাতুর ধ্যানমগ্ন বুদ্ধমূর্তি বলে মনে করা হয়।

এই মন্দিরের পাশেও আছে প্রাচীন কুয়া। কথিত আছে, এই কুয়া সারারাত জলে টইটুম্বর এবং ভোর থেকে আবার কমতে থাকে।

তার পর গঙ্গামতির চর! এই চর থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুই-ই দেখা যায়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত শেষ হয়েছে পূর্বদিকের গঙ্গামতি খালে।

এখান থেকেই শুরু গঙ্গামতি চরের। এই চরে নানা রকম বৃক্ষ ছাড়াও আছে বিভিন্ন রকমের পাখি, বন মোরগ-মুরগী, বানর।

গঙ্গামতির চরে মোটর সাইকেল নিয়ে যাওয়া যায়। কুয়াকাটা সাগর সৈকত থেকেই এই মোটর সাইকেল-চালক আরোহী (আগ্রহী পর্যটক) তোলে এবং চরে নিয়ে যায়, আবার নিয়েও আসে।

মোটর সাইকেল করে কাউয়ার চরেও যাওয়া যায়। প্রকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই কাউয়ার চর। কুয়াকাটা সৈকতের ৮ থেকে ১০ কিমি পূর্বদিকে এই চর অবস্থিত।

কাউয়ার চরের একদিকে যেমন সাগরের গর্জন, অন্যদিকে তেমন কেওড়া বন আর লাল কাঁকড়ার বিচরণ ভূমি।

ক্র্যাব-আইল্যন্ড বা লাল কাঁকড়ার দ্বীপে এই লাল কাঁকড়াদের বাস। এই কাঁকড়াগুলি শান্ত পরিবেশে সৈকতের বালিতে এমনভাবে বিছিয়ে থাকে যে, মনে হয় কেউ যেন লাল রঙে শিল্পিত ছবি এঁকে রেখেছে।

.

এখানে যে রাখাইন পল্লী আছে, সে জায়গার নাম কেরানিপাড়া। রাখাইন নারীরা কাপড় বোনে। নারীরাই রাখাইন পল্লীর দোকানগুলোতে বেচা-বিক্রি করে।

ওদের বোনা কাপড়, বিশেষ করে শীতের চাদর আকর্ষণীয়। দোকানে দোকানে সুন্দরভাবে নানারকম জিনিস ঝুলিয়ে রাখা আছে। দামে বনলেই কেনা যায়।

কুয়াকাটা সৈকত থেকে ৫ কিমি পূর্বে লেবুর চর অবস্থিত। এই চর স্থানীয় ভাষায় লেম্বুর চর বা নেম্বুর চর বলে পরিচিত।

কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিম পাশের নদী পার হলেই ফাতরার বন। ফাতরার বন বা ফাতরার চর হলো সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। এটি দ্বিতীয় সুন্দরবন নামে খ্যাত।

এই বনাঞ্চলের আয়তন ৯,৯৭,৫০৭ একর। এই বনে কেওড়া, গেওয়া, সুন্দরী, ফাতরা, গরান, বাইন, গোলপাতা ইত্যাদি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং বানর, শূকরসহ অসংখ্য জীবজন্তু ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আছে।

পাখিদের গানে মুখর থাকে এই বনভূমি। এ ছাড়া এখানে অজগর, গোখরা-সহ আছে নানা জাতের সরিসৃপ। ফাতরার বন বা ফাতরার চর দিনে দুইবার জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়।

এখানে ইঞ্জিন চালিত বোট এবং জাহাজে যাওয়া যায়। ইঞ্জিন চালিত বোটগুলিতে চড়লে ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়! তবুও ভালো। সবকিছু দেখা না-হলেও—যা দেখলাম সেই সৌন্দর্য চোখ ভরে দেখলাম।

ভোর এবং বিকেলের নরম রোদে সৈকতে দাঁড়িয়ে থেকে কিংবা হেঁটে বেড়াতে বেড়োতে সাগরজলের মধুর শব্দ শুনতে খুবই ভালো লাগে।

শুধু আমার নয়, সকলের ভালো লাগবে! সাগর সবসময় টানে আমাকে। কারণ সাগরের কাছে গেলে—এর বিশালত্বের কাছে লীন হয়ে যেতে ইচ্ছা করে।

.

কুয়াকাটা সাগর সৈকতে ঘুরে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখে ফিরতি পথ ধরলাম আমরা। যাওয়ার সময় তো দেখেছি, ফেরার পথেও ঐ সুন্দর দৃশ্য চোখে লেগে আছে। রাস্তার দুই পাশে লাল কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন।

যাওয়ার পথে একটি তেলের পাম্পে থেমেছিলাম, সেখানে দেখেছি পারুল ফুল। হাতে মোবাইল না-থাকাতে ছবি নিতে পারিনি। ছবি নিতে পারিনি জলাশয়ে কঞ্চির ওপর বসা ধ্যানী মাছরাঙাটিরও।

ভাসমান কচুরিপানা ফুলের মনকাড়া সৌন্দর্য ধরে রাখা গেল না চলমান মাইক্রোতে থাকার জন্য।

চলমান অবস্থায় রাস্তার সৌন্দর্য ধরে রাখা যায় না, কারণ কাছে আসতে-না-আসতেই সব সৌন্দর্য পেছনে ফেলে পথ চলে যায় দূরে।

জীবনের অনেক কিছু অধরা থাকে, হারিয়ে যাওয়া থাকে, না-পাওয়া থাকে; এতে মন খারাপের কিছু নেই!

আমরা যে ফিরতে পেরেছি এতেই খুশি! কারণ আমরা রওয়ানা দেওয়ার আগে ভেবেছিলাম, কিছুদূর গিয়ে রাস্তায় কোনো ভালো রেস্টুরেন্ট দেখে নাস্তা (সকালের খাবার) খাবো।

দীর্ঘ রাস্তা অতিক্রম করে এলাম, কিন্তু খেতে বসার মতো কোনো জায়গা পেলাম না। অনেক দূর এসে নাস্তা খেলাম।

নাস্তা খাওয়ার পরে আবার রওয়ানা দিলাম, কিছুদূর যাওয়ার পরে উঠলো ঝড় এলো, সঙ্গে নিয়ে এলো তার সখি বৃষ্টিকে। কড়কড় কড়াৎ বাজ পড়ছে। ছবি তুলেছিলাম, কিন্তু ভয়েও ছিলাম।

ইদানীং বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে ভীত হওয়ারই কথা। বজ্রপাতকে এখন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হিসেবে ধরা হয়।

আমরা যেখান দিয়ে চলছিলাম ঐ রাস্তাতে এমন কোন শেড ছিল না, যেখানে গাড়ি রেখে দাঁড়ানো যায়। চারদিক গা ছমছম ভাব-করা অন্ধকার। যাক এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে থামলো ঝড়।

ঝড় থামার পর ফের পথ চলা শুরু; আমরা ফিরে এলাম ঢাকা। ভ্রমণের পরে নিজের ঘরটিকে খুবই প্রিয় মনে হয়!

(চলবে)

…………………

পড়ুন

কবিতা

আফরোজা অদিতির পাঁচটি কবিতা

গল্প

রাত ভোর হতে আর কত দেরি

মুক্তগদ্য

অর্থ এক বিলাসী প্রেমিক

ভ্রমণ

গোকুল মেধ বা বেহুলার বাসরঘর

অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণকথা

অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণকথা – ২য় পর্ব

দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও রাণী রাসমণি

দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও রাণী রাসমণি – ২য় পর্ব

সাগর জলে পা

কুয়াকাটা সাগর সৈকত

সেন্টমার্টিন সাগর সৈকত

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

Spread the love

One thought on “সাগর জলে পা : কুয়াকাটা সাগর সৈকত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *